Wednesday, September 2, 2015

শাবিপ্রবি নিয়ে তামাশা চলছে; রাজনৈতিক তামাশা

ফাজলামির একটা সীমা সবসময়ই থাকতে হয়, নাহলে সীমাহীনতার অপরাধ অনেক পাপ ঢেকে আনে। শাবিপ্রবি গড়ছেন শাবিপ্রবির শিক্ষকরা, উনারা এতদিনে ওখানকার লতাপাতাগুলোকেও চিনেন বলে আমি মনে করি। কিন্তু কোন বিবেচনায় সেখানে বাহির থেকে ভিসি নিয়োগ দেয়া হয় তা আমার মাথায় ঢোকেনা। যেসব লোকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের চালিকাশক্তি, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়টাকে সচল রাখেন তাদের সচল রাখতে একজনকে নিয়োগ দেয়া হয় বাহির থেকে যে কিনা ভার্সিটিটাকে ঠিকমত চিনেন ই না। এইসব আজীব যুক্তিগুলো কর্তাব্যক্তিদের দেয় কে? ওদের চাকরি কেড়ে নেয়া উচিত। জাবিতেও এইরকম একটা নোংরামি করা হয়েছিল। সেটার ফল ভাল হয়নি এবং দুঃখের বিষয় ওখান থেকে কেউ কোন শিক্ষাও নেয়নি।

শাবিপ্রবিতে কি কোন সিনিয়র শিক্ষক নাই যিনি উপাচার্য হতে পারেন? তাহলে কেন এই নোংরামিগুলো করেন নীতি নির্ধাকেরা?

শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি আসল সমস্যা, ছাত্রলীগ বা ছাত্রদল নয়

হায়রে বাঙ্গালী !! এরা আবেগীই থেকে গেলো। সবাই আবেগী হয়ে মজা নিচ্ছেন।

আরে ভাই ছাত্রলীগ কে দোষ কেন দিচ্ছেন? ছাত্রদল থাকলে কি এর থেকে ভিন্ন কিছু হত? অবশ্যই না। শাবিপ্রবিতে হয়েছে কিনা জানিনা, অন্যান্য ইউনিগুলোতে ছাত্রদলের কাহিনীও একই রকম ছিল যখন তারা ক্ষমতায় ছিল। ওহ আচ্ছা, শিক্ষক লাঞ্ছিত করেনি এত বেশি? হা হা হা …… দিন দিন আগাচ্ছিনা আমরা সবাই, আরেকবার আসতে দিন না ক্ষমতায়। মূল পার্থক্যটা হল ক্ষমতা। যখন যেই দল ক্ষমতায় থাকেন তখন তাদের দল/লীগ এইসব সুসংবাদগুলো দেয়। তাই যদি দোষ কাউকে দিতে হয় সেটা ওই ক্ষমতা বা ক্ষমতার উৎস বা ক্ষমতা তৈরির প্রসেসটাকে দেন।

যারা ছাত্রলীগ/দল করে তারাও ছাত্র হিসেবেই ইউনি তে আসে। এদেরকে লীগ/দল বানানো হচ্ছে কেন? এরা না পড়তে আসে ইউনিতে? তাহলে এদেরকে লাঠিয়ালি করার সুযোগ কেন দেয়া হচ্ছে? কারন ক্ষমতাশীলদের এদের দরকার হয় মাঝে মাঝে। এইসব ক্ষমতালোভিদের জন্যই এইসব মেধাবী ছেলেমেয়েগুলো নষ্ট হয়ে যায়। আর ক্ষমতাসীনরা যুক্তি দেখান ছাত্র রাজনীতি দরকার আছে। ৫২/৬৯/৭১/৯০/২০০৭-৮ এ এদের ভূমিকার কারনে দেশ বাঁচতে পেরেছে। বড়ই কঠিন যুক্তি, আপাত দৃষ্টিতে ভাঙা মুশকিল। তাই হয়তো সবাই চুপ হয়ে যায়। কিন্তু আমরা কি এখনো ৭১ এ আছি? আমাদেরকে কি আরও যুদ্ধ করতে হবে? তাহলে এদেরকে যুদ্ধবস্থায় রেখে লাভ কি? এদের হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নেয়াড় সময় কি এখনো আসেনি? আর রাজনীতি করতে হলে সেটা শিক্ষাঙ্গনে কেন? ইউনিতে এরা আসে মাত্র ৪-৫ বছরের জন্য। এই সময়েই কি রাজনীতি করতে হবে? তাও আবার শিক্ষক ছাত্র সবাইকে মেরে কেটে? এরা ইউনিতেই খুন খারাবি করে, ইউনির পরে এদের কাছে তাহলে কি আশা করা যাবে?

দয়া করে এইসব বন্ধ করার পক্ষে আওয়াজ তুলুন। বাংলাদেশের মত গরীব দেশ শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি afford করেনা। কেউ রাজনীতি করলে সেটা শিক্ষাঙ্গনের বাইরে করুক। শিক্ষাঙ্গনে শুধু যাদের শিক্ষাদীক্ষায় আগ্রহ আছে তাঁদেরই আসতে দিন। নাহলে দেশের উন্নতি জীবনেও সম্ভব না। শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি না থাকলে একজন শিক্ষক তার সহকর্মীদের ছাত্র দিয়ে পেটানোর মত ঘৃন্য কাজের কথা চিন্তাও করতে পারতেন না। এজন্যই মনে হয় শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কথা বলা উচিৎ এখন। কারন যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ না দিলে এরা বড় হয়ে শাবিপ্রবির উপাচার্যের মত আচরন করবে !!

অধ্যাপক জাফর ইকবাল সাগাঃ প্রথম প্রতিক্রিয়া

উনার লিখা ভাল লাগলেও আমি ব্যক্তি জাফর ইকবালের ভক্ত না। কিন্তু উনার এই ছবিটা বুকের মধ্যে একটা খচাং বাজিয়ে দিল। তারপরেও এই স্ট্যাটাসটা দিব কিনা ভাবছিলাম। কারন কয়েক বছর আগে যখন এই একই ছাত্র সংগঠন জাবিতে শিক্ষকদের উপড়ে হামলা করেছিলো তখন অধ্যাপক জাফর ইকবাল কোন উচ্চবাচ্য করেন নি। বরং এটা যার প্ল্যানে হয়েছিলো উনি তার পক্ষেই ছিলেন।

হায়রে শিক্ষকতা পেশা!! একজন উপাচার্য নিজের পদ ধরে রাখার জন্য নিজেরই সহকর্মীদের মার খাওয়ান, তাও আবার ছাত্র দিয়ে। উপাচার্য হবার জন্য একজন শিক্ষক এত নিচে নামেন কি করে? আজ নিজেকে চরম অপদার্থ মনে হচ্ছে শিক্ষক সমাজের একজন হবার কারনে। তবে আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, আমি যেই মানসিকতা নিয়ে শিক্ষকতা করতে গিয়েছি শাবিপ্রবির উপাচার্য কোনভাবেই সেটাকে represent করেন না। আমি বলছিনা যারা আন্দোলন করছেন উনারা তুলসীপাতা। উনাদের মধ্যেও উপাচার্য হবারই লোভ রয়েছে। কিন্তু সেটাকে এভাবে দমন করতে হবে?!!

প্রসঙ্গক্রমে মনে পড়ছে একদিন জাবিতেও এইরকম আন্দোলন হয়েছিলো অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। আনোয়ার হোসেনও গদি আঁকড়েই ধরে রেখেছিলেন এবং আজকের এই অধ্যাপক জাফর ইকবাল তখন আনোয়ার হোসেনকে সাপোর্ট করেছিলেন। উনি তখন আন্দোলনকারীদের বেশ বাজে ভাষায়ই তিরস্কার করেছিলেন। উনার সেদিনকার আর আজকের নৈতিকতার মধ্যে অনেক তফাত রয়েছে মনে হয়। উনার সেদিনের কথাগুলো আজকে কেমন যেন উনাকেই তাড়া করে বেড়াচ্ছে।

তবে আজকেও অনেকে মনে করছেন উনাদের আজকের অন্যায়গুলো কাল উনাদের তাড়া করবেনা। জাবিতে সেদিন যেসব ছেলেমেয়েরা অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের পরামর্শে শিক্ষকদের উপড়ে হামলা করেছিলো তাদেরকে বর্তমান উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন। দেখি এটার ফলাফল ভবিষ্যতে কি দাড়ায়?

:: প্লেজারিজম এবং ফিডম ফাইটারস এর এস নিয়ে টানাটানি ::

 মানুষজন প্লেজারিজম নিয়ে কথা বলছে ফেসবুকে। ভালো লাগছে যে এতে যদি কারো কারো সেলফ - এস্টীম জন্মায়। চাকরির শুরুতে সব কাজ করার পরে যখন দেখতাম আর...