Wednesday, July 18, 2018

সাহসহীন সুশীলস!

এই ধরুন, দিন দিন আমাদের জ্ঞান বাড়ছে, আমরা অনেক কিছুই শিখি। জানার আর বোঝার কোনো শেষ নাই, তাই শিখে যাই। এই যেমন চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন এর ঘটনাবলী দেখে একটা উপলব্ধি হয়েছে অধ্যাপক জাফর ইকবাল কেন মুক্তিযুদ্ধ করেন নি বা যুদ্ধাপরাধের মামাল্য স্বাক্ষ্য দিতে আসেন নি। আমি ভুল ও হতে পারি। আমার ধারনা হলোঃ

মুক্তিযুদ্ধ বা এর মতো বড় কিছুতে নিজেকে জড়াতে হলে সাহস লাগে। ইকবাল সাহেবের এবং সাহেবদের সেটা নাই মনে হয়। উনি কোটা নিয়ে পক্ষে লেখার পরে সংসদ থেকে আসা বানীতে এমন ঘাবড়িয়ে গেছেন যে উনি এরপরে যা করলেন তা তো ইতিহাস। নতুন এক জাফর ইকবাল কে দেখলো জাতি। বলা যায়, জাফর ইকবাল কে বমি করতে দেখলো পুরো জাতি। এখনো বমি ই চলমান। এই যে এতো ছেলেমেয়ে মার খাচ্ছে, এতো শিক্ষক লাঞ্চিত হচ্ছে, উনার বমি চলমান আছে। কোনো টু টা নাই। আরে ভাই, একজন শিক্ষক যিনি কিনা শিক্ষকের চেয়ে লেখক হিসেবে বেশি পরিচিত উনি শিক্ষাখাতের এমন গোলোযোগ নিয়ে চুপ মেরে বসে আছেন! কিছুই লিখছেন না - কি করে সম্ভব তা? কিন্তু সমন্নিত ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বা ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষকরা কেন টাকা নেন তা নিয়ে উনি বেশ সরব। হায়রে মিডিয়া প্রেম!

কিন্তু কিছু বাচ্ছা পোলাপাইন তাদের কথা বলার অধিকার আছে এবং সেটা প্রমান করার জন্য অনেক নির্যাতনের মাঝেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে সরব আছেন। আমি তাদের দাবির পক্ষে বিপক্ষে যাবোনা, তবে আমি তাদের উপড় চলা নির্যাতন কে অত্যন্ত অন্যায় মনে করি। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিরা প্রজাদের টাকায় চলে তাদের উপড় এমন নির্যাতন করলে প্রজাতন্ত্র দরকার কোথায়? নাকি এরাও ১৫/৩৮ এর ট্রেনিং নিয়ে এসেছে?

যাই হোক, দিনশেষে রাস্তায় মার খাওয়া ছেলে/মেয়েটির জন্য শ্রদ্ধার পারদ যত উপড়ে উঠছে, অধ্যাপক ইকবাল বা এই গোত্রীয়দের জন্য ঠিক ততোটাই কমছে।

সুশীলপনা


একবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। সংবাদচিত্রে দেখা গেছে - শিবিরের মিছিলে লাঠি/অস্ত্র হাতে লিড দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। আমরা তখন মজা করছিলাম বিভিন্ন জোকস এর মাধ্যমে - - অস্ত্র জমা দিয়েছি কিন্তু ব্যবহার তো ভুলিনি ইত্যাদি ইত্যাদি।

অবস্থাদৃষ্ঠে এখন মনে হচ্ছে জোকস করার সময় শেষ এসব নিয়ে। এখন বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে ছাত্রদলের সাথে বিএনপির শিক্ষকরা নামতে পারবেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে ছাত্রলীগের সাথে আওয়ামী শিক্ষকরা নামতে পারবেন, জামাত যেহেতু দুই দলেরই ভাসুর তাই তারা সব আমলেই নামতে পারবেন এই মর্মে নিয়ম করা হোক।

লাভ কি? বিশাল লাভ দাদা। এতে করে আর কোনো নাচতে নেমে ঘোমটা দেয়া নর্তক/নর্তকীর নাচ দেখতে হবে না। মানুষ সহজে বুঝতে পারবে কে সাদা আর কে কালা। আরও একটা বড় সুবিধা হলো, কিছু ভদ্রলোকের মনোকষ্ট - - ইস যৌবনকাল নাই তাইলে দেখাইয়া দিতাম, বা শিক্ষক না হলে দেখাইয়া দিতাম, বা বুকটা ফাইটা যায় কিন্তু মুখে আনতে পারছিনা - - দুর হবে এবং ঐসব আগাছা জাতীয় জিনিসপত্র আমাদের দেখতে বা শুনতে হবে না।

Friday, May 18, 2018

মানুষের মনুষ্যত্ব

মানুষ বড় হবার পড় যদি নিজেকে ছোট করতে না পারে, তাহলে সে কি মানুষ থাকে?

- - অনেক বড় হবার পড় যদি ছোটদের ছোট বলতে আপনার বিবেকে না লাগে তাহলে বুঝতে হবে আপনি বড় হয়েছেন এবং অমানুষ হয়েছেন। মানুষ হতে পারেন নি।

- - আপনি খুব ভালো একটা প্রতিষ্টানে চাকরি করেন বলে বাকিদের কিছু মনেই করেন না, আপনি তাহলে মানুষ হতে পারেন নি। মনে রাখা উচিৎ, যিনি ছোট কাজ করেন তিনিও সম্মান পাবার যোগ্য; এখন আপনি তা দিবেন কিনা সেটা আপনার ব্যপার।

- - আপনি ভালো রিসার্চ করেন বিধায় অন্য যারা রিসার্চে আপনার মতো দক্ষ না, তাদেরকে আপনার তেলাপোকা মনে হয়, আপনি মানুষ হতে পারেন নি। এই যে ভাবছেন, আপনি ভালো গবেষক, কুলীন সম্প্রদায়ের লোক, এটার একদিন সমাপ্তি তো হবেই, তাইনা? তবে সেদিন আর মানুষ হতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে !

- - আপনি নিজের স্বার্থটা ভালোই বুঝেন, স্বার্থ উদ্ধার করে নেন কোনোরকম ধন্যবাদ দেয়া বাদেই, কিন্তু অন্যের স্বার্থের ব্যাপারে মারাত্মক উদাসীন থাকেন, আপনার মধ্যে মানুষ হবার তেমন লক্ষন নাই।

- - অন্যদের গ্যারান্টেড ভাবেন, তাই দরকার হলে খোঁজ নেন, কিন্তু অন্যের দরকারে রবীন্দ্রনাথের বইয়ের ভাষায় কথা বলেন, আপনি এখনো মানুষ হন নি।

- - আপনি মানুষকে সাহায্য করতে আসেন এটা বুঝানোর জন্য যে আপনি অনেক বড় হয়েছেন, আপনি হয়তো টের পান না যে আপনার কথায় একধরনের অনুকম্পা থাকে। আপনি এখনো মানুষ হন নি।

- - অন্যে যখন আপনাকে অসম্মান করে আপনি তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেন, কিন্তু আপনি যখন অন্যকে একইধরনের অসম্মান করেন তখন আপনি কিছু মনে করেন না; আপনার মনুষ্যত্ব মরে গেছে অথবা ছিলোনা কোনোদিন

- - মানুষকে মানুষ না ভেবে আপনার চেলা বানাতে ইচ্ছে হয় এবং তাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, আপনি কোনোদিন মানুষ হবেন কিনা আমার সন্দেহ আছে

জগতের সকল মানুষের চেহারার প্রাণীগুলো (আমিসহ) মানুষ হোক, আমিন !

:: প্লেজারিজম এবং ফিডম ফাইটারস এর এস নিয়ে টানাটানি ::

 মানুষজন প্লেজারিজম নিয়ে কথা বলছে ফেসবুকে। ভালো লাগছে যে এতে যদি কারো কারো সেলফ - এস্টীম জন্মায়। চাকরির শুরুতে সব কাজ করার পরে যখন দেখতাম আর...