Monday, October 10, 2016

মাশরাফি, নাসির, পাপন, এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট


প্রথমেই বলে নেই আমি ক্রিকেট বিশারদ নই, তবে ক্রিকেট বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ফ্যান। ফ্যান হিসেবে অন্য কোন দেশের বেলায় না হলেও দেশের ক্রিকেটের খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করি। তার উপড় ভিত্তি করেই এটা লিখছি; ভুল হলে শুধরে দিবেন দয়া করে।

নাসির কে যে খুব একটা চিনতাম এমনটা নয়। একদিন মাশরাফিকে বলতে দেখলাম যে এই ছেলেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ। যেহেতু ম্যাশ এর উপড় অগাধ আস্থা আমাদের, তাই তার কথা শুনার পরে নাসিরকে নিয়ে সজাগ থাকতাম। আসলেই ভাল খেলে ছেলেটা। ম্যাশ ভুল বলেন নি।

কিন্তু নাসির কে যেভাবে ক্রিকেট রাজনীতির স্বীকার হতে হয়েছে তা দেখে খুব বিরক্ত হয়েছি। হঠাৎ একদিন পাপন বরাতে জানতে পারলাম নাসিরের দলে সুযোগ না পাবার অন্যতম একটা কারন হচ্ছে তার অনেকগুলো মোবাইল ফোন এবং অনেকগুলো বান্ধবী। অনেকগুলো বান্ধবী রাখা কতটা নৈতিক, সে বিবেচনায় আমি যাচ্ছিনা। আমি বরং বুজতে পারছিনা পাপন এর কাজ টা কি। নাসিরের এতগুলো বান্ধবী যদি তার খেলায় বিঘ্ন ঘটায়, সেটা ম্যানেজ করার দায়িত্ব তো পাপন সহ ম্যানেজমেন্ট টীমের বাকি সবার। নাসির বাংলাদেশের মত গরিব দেশের অনেক বেতন পাওয়া মানুষ। তার কাছ থেকে সর্বোচ্চটা যাতে পাওয়া যায় সেটা নিশ্চিত করার জন্যই পাপন সহ একটা বিশাল টীমকে আরও অনেক অনেক টাকা দিয়ে পোষা হচ্ছে। কিন্তু পাপন গং কি নিজেদের কাজ করতে পারছে সঠিকভাবে? পাপনের তো নাসিরের কয়টা বান্ধবী আছে সেটা জনসম্মুখে এইভাবে বলার দায়িত্ব না। তার দায়িত্ব নাসিরের কাছ থেকে ভালোটা বের করে আনা এবং সেজন্য যা যা দরকার তার সবকিছু করা। এতে করে নাসির কে যদি বান্ধবীদের কাছ থেকে দুরে রাখতে হয় তাও তার ব্যবস্থা করার কথা। উনি সেখানে ব্যর্থও হলেন এবং গায়ের জোড়ে সকল রকমের ভদ্রতা বাদ দিয়ে একজন ক্রিকেটারকে মানুষের চোখে অনেক নিচে নামিয়ে দিলেন। খেলতে না পারার ব্যর্থতার কারনে যদি নাসিরকে দল থেকে বাদ পড়তে হয়, তাহলে পাপন কেন এখনো বহাল তবিয়তে? ওহ আচ্ছা, নাসিরের বাপ তো প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট না, তাইনা?

আচ্ছা, পাপনের বায়োডাটা কি কেউ দেখেছেন? উনার ক্রিকেটীয় কি কি এমন যোগ্যতা আছে যে উনি বাংলাদেশের মত একটা উদীয়মান দলের সবচেয়ে বড় কর্তা? উনার কোন ক্রিকেটীয় রেকর্ড আছে বলে আমি শুনিনি। উনি কি কোনদিন পাড়ার ক্রিকেট খেলেছিলেন? কেউ জানেন কি?

এর আগেও উনারা আল আমিন কে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে পাঠানো নিয়ে অনেক রসালো কাহিনি করেছিলেন। আল আমিন নাকি হোটেলের বাইরে অবস্থান করেছিলেন। ভাল কথা, এইটা অন্যায়। কিন্তু উনি এই অন্যায় রোধ করার জন্য কি করেছিলেন? উনি নিজে জুয়া খেলায় মত্ত থেকে বাইরে থাকতে পারবেন, কিন্তু আল আমিন আর মানুষ না (উনি অস্ট্রেলিয়া এসে মেলবোর্ন আর ব্রিসবেনে জুয়া খেলার আসরে ছিলেন এটা নিশিচত থাকতে পারেন, বাকিগুলো জানিনা)।  ওই একই আসরে সাকিব কে দেখলাম ব্রিসবেন থেকে গোল্ড কোস্টে ঘুড়ে বেড়াতে এখকানকার বাংলাদেশি ছাত্রদের সাথে। তখন দোষ হয় নাই? রুবেলের এত বড় কেলেঙ্কারি ও কিন্তু তাকে অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে বাধা দেয়নি। তাহলে আবারো একই কথা, আল আমিন ছেলেটা কালা, দেখতে ভুতের মত, গাইয়া, এবং ভাত পাগল। এগুলোই অনেক বড় অপরাধ ছিলো।

পাপন গঙদের দায়িত্ব ক্রিকেট ম্যানেজ করা। ক্রিকেটে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করা না। উনার কাজ রুবেল বা নাসিরের বেডরুম পাহারা দেয়া না। ৩৪ বছরের রুবেল (আরেক রুবেল) ৮ না ১০ বছর পরে দলে সুযোগ পায়, কিন্তু ২৪ বছরের নাসির পায় না। বাংলাদেশের মানুষের কষ্টে জমানো টাকা দিয়ে উনি নিজের ব্যক্তিগত ক্ষোভ উপহার দিবেন জাতিকে আবার দম্ভ ভরে বলবেন যে কার বদলে নাসির কে দলে নিবো? নাসির একটা উদাহরন মাত্র, যেটা ঘটনাচক্রে সামনে চলে এসেছে। আমরা কেউ ই জানিনা এইরকম আরও কত আছে পর্দার পিছনে।

যাকগে, আজকে আসলে বাংলাদেশ ইংল্যান্ড এর দ্বিতীয় ম্যাচের কথা বলতে চেয়েছিলাম। এই ম্যাচে নাসির খেলেছে অনেকটা দেশব্যাপী ওকে নিয়ে আলোচনার কারনে। সে ভাল করেছে বলে এই যাত্রায় বেচে গেলো। কিন্তু কিছু ব্যাপার লক্ষণীয়। নাসির কে কাল আসলে কোনো বিপদে ফেলার চিন্তা ছিলো কিনা টিম ম্যানেজমেন্টের?

নাসির একমাত্র বাংলাদেশী বোলার যে এই ম্যাচে ১০ ওভার বল করেছেন। ম্যাশ নিজেও করেন নি ১০ ওভার যদিও সে খুব সফল হচ্ছিলো বল হাতে এই ম্যাচে। এবং নাসির একটানা ১০ ওভার বল করেছেন। আমি কি ধরে নিবো যে নাসির কখন পিটানি খাবে সেই অপেক্ষায় ছিলো টিম ম্যানেজমেন্ট? উইকেট দরকার ছিলো, মোসাদ্দেক এক ওভার বল করে এক উইকেট পেয়ে গেলো। ওরে কিন্তু আর আনা হয়নি। কিন্তু নাসির বল করেছেন একটানা। পিটানি খায়নি, ওর কপাল ভাল, যদি খেত তাহলে নাসির তো এক চান্সে স্থায়ীভাবে দলের বাইরে চলে যেতো। পানি টানার সুযোগ ও হয়তো থাকত না। এবং পাপন এর হেভভি মাসল টাইপের মুখ থেকে আমরা আবার কিছু আবর্জনা বের হতে দেখতাম।

কাল নাসিরের কপাল সেইরকম ভাল ছিলো। শেষ যেই উইকেট নিয়ে মানুষ যখন আবার প্রথম ম্যাচ কে স্বরন করা শুরু করেছিলো, খোদার কুদরতে ওটাতেও নাসিরের নাম জড়িয়ে গেলো। ম্যাশ কি কোন প্রেসারে ছিলো নাসির কে নিয়ে? আমি ম্যাশকে সন্দেহ করছিনা, কিন্তু সে নিজেও পরিস্থিতির স্বীকার হতে পারে। ম্যাচের পরে ম্যাশকে নাসির সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে সে সরাসরি উত্তর দেয়নি। সে বরং নাসিরকে নিয়ে করা প্রশ্নে রিয়াদকে নিয়ে উত্তর দিয়ে নাসির সম্পর্কে এক লাইন বলেছে। এটা দেখেই মনে হচ্ছে যে নাসির রে নিয়ে কেউ কিছু বলতে চায়না। পাছে পাপনের মাসল দেখতে হয় ! আমার অনুমান মিথ্যা হোক আমি নিজেই তা চাই। তবে যদি সত্যি হয়, ম্যাশ নিজেও একটা জুয়ার অংশ হয়ে গেলেন !

এই ম্যাচে অন্তত পাপনের মুখে তালা লেগে গেলো। কিন্তু এই তালা কয়দিন যে লেগে থাকবে আমার সন্দেহ আছে। আমি বরং ভয়ে আছি, যেসব আবর্জনা পাপন এই ম্যাচের পরে বিসর্জন দিতে পারেন নি, তা তো উনার পেটে গ্যাস তৈরি করবে। এই গ্যাস যখন ফেটে বেরোবে তখন তা নাসির বা অন্য কোন ক্রিকেটারকে কিভাবে ভোগাবে !

Wednesday, May 18, 2016

শিক্ষকের সম্মান এবং গনতামাশা !

একজন শিক্ষককে অপমান করেছে এবং সেটা করেছে অসম্ভব দৃষ্টিকটুভাবে। এখানে দুটো ব্যাপার রয়েছেঃ
  • একটা ক্রিমিনাল অ্যাক্ট, যেটা একজন মানুষের সাথে হতে পারেনা
  • একজন শিক্ষকের অপমান মারাত্মক symbolic যেটা সমাজের জন্য ক্ষতিকর

প্রথমটার জন্য উচিৎ শাস্তি দাবি করা এবং দ্বিতীয়টার জন্য দরকার মানসিক শিক্ষা। কিন্তু আমরা কি করছি? 
  • আমরা প্রথমেই নিয়ে আসছি লঘু বা গুরুর ব্যাপার। এতে ultimately উনার প্রতি যে একটা অপরাধ করা হয়েছে সেটা ঢাকা পরে যাচ্ছে। সবাই উনার ধর্ম বা উনি অন্য ধর্ম নিয়ে কিছু বলেছেন কিনা সেটা নিয়েই কথা বলছেন। কেউ বলছেন না যে উনার সাথে অন্যায় করা হয়েছে এবং সেটার জন্য আগে শাস্তি হওয়া দরকার। এইরকম ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের অনেক স্কুল বা কলেজে এইধরনের আকাম করা হয়। তবে একেক যায়গায় execution টা একেক ধরনের হয়। উনি হিন্দু বলে উনাকে ধর্মের ব্যাপার দিয়ে সাইজ করা সহজ মনে করেছে যারা এটার প্ল্যান করেছেন। কিন্তু সেজন্য উনার হিন্দুত্বকে কোনভাবেই সামনে নিয়ে আশা উচিৎ না। তাতে আসল অপরাধটারই বিচার হবেনা। আমরা এখন উনার ধর্ম বা আমার ধর্ম নিয়ে চিৎকার করে থেমে যাবো। কিন্তু যেটা আসল সমস্যা, দুর্নীতি বা অবৈধ কাজ, সেটা নির্মূল করার জন্য আওয়াজ তুলবো না। ফলে এইসব কাজ গতকাল হাজারীরা করতো, আজ ওসমানরা করছে, কাল অন্য কেউ করবে; কারন বিষবৃক্ষ তো থেকেই যাচ্ছে।
  • আজ অনেক কুতুবদের প্লাস অনেক সাধারন মানুষদের দেখছি কান ধরে ফেসবুকে ছবি দিতে। আমার হাসি পাচ্ছে, এদের self marketing স্টাইল দেখে। মনে হচ্ছে বাজারে নতুন কোন ফ্যাশন এসেছে। কিছুদিন আগে দেশের সকল বড় বড় রাজনৈতিক নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে এমন কোন বাজে কথা নাই যেটা বলেন নি। এইরকম করে তো প্রতিবাদ দেখিনি। এইটা সত্যি যে আমরা স্কুল থেকেই শিক্ষার শুরুটা করি, কিন্তু স্কুলে যারা শিখান তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই তৈরি করে। কেউ কি কোনদিন দেখেছেন কোন স্কুল তার শিক্ষক বানাচ্ছে? বা কেউ একজন স্কুলের পর্ব শেষ করেই শিক্ষক হতে পেরেছে? তাহলে সেদিন কি সমস্যা ছিলো প্রতিবাদ করতে? প্রতিবাদ তো হয় - ই - নি, বরং শিক্ষকদের নিয়ে যা তা ও বলেছেন অনেকে। কেন ভাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কি নর্দমার কীট নাকি? নাকি আপনি বলতে চাইছেন যে আপনি এইসব শিক্ষকদের চেয়ে বেশি মনে রাখেন আপনার স্কুলের শিক্ষক কে? তা বলতে চাইলে, ওইটা একটা ফাইজলামি হবে ! কারন আমি কোনদিন দেখিনি কোন ছাত্র এসে বলেছে তার কাছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের চেয়ে প্রাইমারি বা মাধ্যমিক স্কুল জীবন অনেক বেশি স্মরনীয় ! হ্যা, বলতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক ভাল না। সত্যি কথা, কিন্তু বাংলাদেশ বা পৃথিবীর কোনা জায়গায় সব কিছু ভাল আছে?
সেদিন যদি শিক্ষকদের সম্মান নিয়ে প্রতিবাদ হতো, আজকে এইটা নাও হতে পারতো। সেদিন আমরা যারা শিক্ষক তারা বুঝেছিলাম, দেশের সাধারন জনগন কতটা শিক্ষা বিমুখ আমাদের নেতাদের মত। এখন আজ এসে যখন সেই জনগন নিজেদের শিক্ষা বান্ধব বলেন, বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় বৈকি। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সম্মানিত হলে, আজ স্কুলের শিক্ষকরাও হতেন। কারন, যেকোন গাছের মাথায় পানি দিলে সেটা নিচে নামতে বাধ্য।

:: প্লেজারিজম এবং ফিডম ফাইটারস এর এস নিয়ে টানাটানি ::

 মানুষজন প্লেজারিজম নিয়ে কথা বলছে ফেসবুকে। ভালো লাগছে যে এতে যদি কারো কারো সেলফ - এস্টীম জন্মায়। চাকরির শুরুতে সব কাজ করার পরে যখন দেখতাম আর...