Sunday, February 21, 2016

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং চেতনা

আমাদের conceptualization সবসময়ই কিছু সমস্যা থেকে যায়। এই যেমন আজকের দিনটি নিয়ে। একটা সময় এটা ছিল শুধু আমাদের, এখন এটা বিশ্বের। দিবসটি বিশ্বের হওয়াতে এর ধরনে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আমাদের কাছে এই দিনটার দুটো আবেদন আছেঃ শহীদের সম্মান জানানো এবং নিজের ভাষাকে রক্ষা করা। তাই আমরা যেমন শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করি ফুল দিয়ে তেমনি ভাষার চর্চাও করি। কিন্তু সারা পৃথিবী তা করেনা; তারা ২য় অংশটাই বেশি পালন করে। এটা গুরুত্বপূর্ন কারন পৃথিবীর অনেক ভাষাই হারিয়ে যাবার হুমকির মুখে আছে।

তো আমরা আসলে কি করি?
  1. ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই। অনেক জ্ঞানপাপীরাই বলছেন যে শ্রদ্ধা জানানোটা ফেইক, চেতনার ব্যবসা ইত্যাদি ইত্যাদি। এটা না করে দোয়া করা যেতো, শহীদদের পরিবারের খবর নেয়া যেতো। খুবই উত্তম প্রস্তাব। কিন্তু পরেরগুলো করতে গেলে প্রথমটা করা যাবেনা কেন এইটা আমার মাথায় ধরেনা। উনারা আসলে এইটাকে ফুল পুজো হিসেবে দেখেন ! ফুল পুজোতে দুটা সমস্যাঃ এক- ভারতকে অনুসরন করা হয়, দুই-ইসলামের বিরুদ্ধে যাওয়া হচ্ছে। উনাদের ইসলামের প্রতি যত ভালবাসা ঠিক ততটাই ঘৃনা ভারতের প্রতি। অন্যকে ভালবাসতে না পারলে ঘৃনা করতে হবে এইটা মনে হয় ইসলামও বলেনা। এই জ্ঞানীদের জ্ঞান দেখলে আমার মাঝে মাঝে বমি আসে। এই জ্ঞানীরা পুজো আর সম্মানকে এক জায়গায় এনে দাড় করিয়ে দিচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকে আবার অনেক বড় বড় উন্নত দেশে বসে এইসব জ্ঞান বিতরন করেন। উনারা ওখানে কিন্তু মাঝে মাঝেই ফুল নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যান শ্রদ্ধা জানাতে। তখন সেটা পুজো হয়না। উনারা আসলে আমাদের রাজনীতিবিদদের মতঃ নিজেরা খাবেন, অন্যকে খাইতে দিবেননা। এদের কাজ কর্মের সাথে শাম্মী হকদের জার্মানি থেকে বাংলাদেশে প্রকাশ্য চুমু খাওয়ার আহবানের অনেক মিল আছে। শাম্মী হকরা যেমন ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের জার্মানি থাকা নিশ্চিত করে, তেমনি এরাও মানুষদের ধর্মের অপব্যাখা দিয়ে নিজেদের ব্যবসা চালু রাখে। আমার কাছে এইসব লোকগুলোই প্রকৃত চেতনা ব্যবসায়ী 
  2. দোয়া করতে তো কেউ মানা করেনি। অনেক জায়গায় হয়তো দোয়া করাও হয়। আচ্ছা ধরে নিলাম করা হয়না। তাহলে চলুন দোয়া করার জন্য মানুষদের আহবান জানাই। কিন্তু বিভেদ সৃষ্টি করছেন কেন? কাদা ছোড়াছোড়ি করছেন কেন? শহীদদের পরিবারের খবর না নেয়াটা আমাদের জন্য পাপের সমান। চলুন এটা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি করি। কিন্তু সম্মান করাটা বন্ধ করার দরকার কোথায়?

আমরা বাড়াবাড়ি করি কোথায়? 
  1. সারাদিন মাইকে গান এবং বক্তব্য বাজাই। ঢাকা শহরে যেখানে মানুষজন বাসায় থাকতে পারেনা গাড়ির হর্নের কারনে, সেখানে এই যে মাইকগুলো বাজানো হচ্ছে, এইটা দিয়ে কোন ধরনের চেতনা জাগানো হয় তা আমার মাথায় ধরেনা। আমি যতটা বুঝি এটা দিয়ে মানুষকে বিরক্ত করা হয় এবং জনগন কোন কিছু বিশ্লেষন  না করে পুরো ভাষা দিবসটাকেই একটা বিরক্তিকর ব্যাপার ধরে নেয়
  2. অন্য ভাষাকে গালাগালি করি। ব্যাপারটা যখন আন্তর্জাতিক হয়ে গেছে তখন আর অন্য ভাষাকে নিয়ে বাজে কিছু বলার সুযোগ নাই। বরং আমাদেরকেই এখন বলতে হবে অন্য ভাষাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। তাই অন্য ভাষা নিয়ে বাজে মন্তব্য  আমাদের দৈন্যতাকেই প্রকাশ করবে এবং সেটাই হবে চেতনার অবনমন

Tuesday, January 12, 2016

শিক্ষকদের লজ্জা পাওয়া উচিৎ নয় কি?

আমার ব্যক্তিগত মতামত হল যে 'কোন বিশেষ ধরনের সুবিধা' বাংলাদেশের জন্য উপযোগী নয়। এই যেমন মুক্তিযোদ্ধা কোটা। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসীম সম্মান আছে, কিন্তু তাদের কোটা নিয়ে বাংলাদেশে যা করা হলো বা হচ্ছে তা দেখলে উনারা দেশটাকে স্বাধীন করতেন বলে আমার মনে হয়না। কারন মুক্তিযোদ্ধা কোটা যদি হয় অযোগ্যদের যোগ্য করে তোলার হাতিয়ার এবং যোগ্যদের ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলার প্রধান অস্ত্র, এর চেয়ে বড় পরাধীনতা আর কি থাকতে পারে একটা স্বাধীন দেশে? সম্মানটা আসলে মুক্তিযোদ্ধাদেরই দেয়া উচিৎ ছিলো। উনাদের দিকে তাকিয়ে উনাদের পুত্র/কন্যাদের বিচরণ এমন অবাধ করার কোন দরকার ছিল বলে মনে হয়না। আজ সকালেই পত্রিকায় দেখলাম অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন তার এক অত্যন্ত বিখ্যাত কলিগের ছেলে বলে যাকে জাবিতে নিয়োগ দিয়েছিলেন তার নাম আরেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঋনখেলাপির তালিকায় আছে।

তো আপাত সব সম্ভবের এই দেশে সিলেকশন গ্রেড জিনিসটা আরেকটা বৈষম্য তৈরির হাতিয়ার বই আর কিছুই নয়। আমি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কথা বলছি। সিলেকশন গ্রেড এর প্রতিটি পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রাজনীতির নোংরা খেলা। ব্যতিক্রম আছে বৈকি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়োগ এবং পদোন্নতি নিয়ে যেসব রাজনীতি হয় তারই সবশেষ ধাপ হলো এই সিলেকশন গ্রেড। কেউ কেউ PhD নিয়ে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পান আবার কেউ কেউ কোন ধরনের যোগ্যতা পুরন না করেই সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পান - - এইসব নজির কিন্তু আশেপাশে তাকালেই দেখা যায়। আর সরকারি দলে না থাকলে পদন্নোতি নিয়ে যেসব হয়রানি হয় তা আর কি বলবো !! তাই সিলেকশন গ্রেড না থাকাটাকে আমি মন থেকে অভিবাদন জানাই। যোগ্যতার ভিত্তিতে নয় বরং বয়সের ভিত্তিতে কিছু মানুষকে খালি খালি ই ব্রাহ্মণ বানিয়ে দিয়ে পুরা কমিউনিটিতে একটা বিভেদ তৈরি করা হয় সিলেকশন গ্রেডের মাধ্যমে। অনেক যোগ্য এবং মেধাবী শিক্ষকদের দেখেছি অবসরে চলে যাচ্ছেন কিন্তু সিলেকশন গ্রেড পাননি, অথচ উনার চেয়ে অনেক কম যোগ্যতার শিক্ষক তা পাচ্ছেন !

আমি যতটা বুঝতে পেরেছি এই বিভেদ তৈরিকারী অস্রটিকে পূনর্বহাল করার জন্য সাধারন শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন না। উনারা সম্মানের জন্য আন্দোলন করছেন। একটা স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের জন্য আন্দোলন করছেন। কিন্তু আন্দোলনের তথাকথিত নেতাদের দাবিদাওয়া আজকাল শুধুই সিলেকশন গ্রেড আর লোন সুবিধা নিয়ে। আমি বুঝে পাইনা এরা নেতা হয় কি করে? এদের সাথে তো সাধারন শিক্ষকদের কোন কানেকশনই নাই !! এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। অন্যদিকে সাধারন শিক্ষকরাও মুখে তালা মেরে বসে আছে যতটুকু মানসম্মান অবশিষ্ট আছে সেটুকুও হারানোর জন্য। এটাও কম লজ্জার নয় !!

Sunday, November 22, 2015

যুদ্ধাপরাধের ডামাডোলে মুক্তিযুদ্ধই হারিয়ে যাচ্ছে না তো?

এইরকম কথাগুলো মনের মধ্যে অনেকদিন ধরেই জমেছিল। আজ দেখলাম উনিও বলছেন, তাই শেয়ার দিলাম। ভিডিওর লিংক নিচে আছে।
______________________//_____________________//________________

আমি আসলে বর্তমান বাংলাদেশের জনসাধারনের দোষ দেখিনা। বরং আজকের তরুন সম্প্রদায় যেভাবে দেশকে ভালবাসছে তা দেখে আমি অভিভূত হই বার বার। দুঃখও পাই সাথে সাথে। কারন এই ভালবাসা আমার দেশের মধ্যে থেকে জন্ম নেয়নি। আমরা বাইরে আসি বা কঠিন কোন পরিস্থিতিতে পড়ে বুঝতে শিখি দেশ কি। বা উম্মুক্ত নেটের জমানায় অন্যকে দেখে নিজের দেশকে চিনি। তারপরে বুঝতে পারি এই দেশটাই সব, এটাকে ভালবাসতে হবে। কিন্তু এই বোধটা তো দেশের ভিতর থেকেই জন্ম নেয়ার কথা ছিলো। কেন নেয়না? যেই দেশের লোকজন শুধুমাত্র মুখের ভাষার জন্য যুদ্ধে যেতে পারে, সেই দেশের লোকজন দেশকে ভালবাসবেনা কেন? এটা আমার মাথায় ধরছিলনা। বিষয়গুলো নিয়ে পড়ার চেষ্টা করছি অল্পবিস্তর।

আমার মনে হয়েছে স্বাধীনতার পরে বিশেষ করে শেখ মুজিবকে মেরে ফেলার পরে এই দেশের আসল ইতিহাসটাকেই সামনে আসতে দেয়া হয়নি। মানুষ জানেনা এই দেশের সঠিক ইতিহাস কি। একের পর এক ভুল ইতিহাস আমাদের সামনে দাড় করিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই আমরা আমাদের জন্ম সম্পর্কেই সন্দিহান এবং একটা অস্বচ্ছ ধারনা রাখি। আমরা আমাদের জন্ম নিয়ে গর্ব বোধ করতে পারিনা, আমাদের জন্মে যাদের অবদান আছে তাদেরকে সঠিক মূল্যায়ন করতে পারিনা। ব্যাপারটা এমন নয় যে আমরা করতে চাইনা, কিন্তু আমাদের অভ্যাসই নাই। তাই আমাদের মেরুদণ্ডটাও আর কোনদিন সোজা হয়নি। অপরদিকে সুবিধাবাদিরা এই সুযোগে আমাদের রক্তে অনেক কৃত্রিম হিমোগ্লোবিন ঢুকিয়ে দিয়েছে ইতিমধ্যে। তাই আজকে দেখি যুদ্ধাপরাধীদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে যত মিডিয়া কভারেজ হয় তার ছিটেফোঁটাও হয়না মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের নিয়ে। এবং এইসব অসভ্যতামির কারনে একসময়ের সর্বপরিচিত যুদ্ধাপরাধীরা আজকে সাহস পাচ্ছে বুক ফুলিয়ে বলার যে তারা যুদ্ধাপরাধ করেনি। তাই আমি অন্তত দিধাহীনভাবে বলবো শেখ মুজিবকে মেরে ফেলার পরে যেসব লোকজন ক্ষমতায় ছিলেন তাদের অবদানও কম নয় বাঙালী জাতিকে কনফিউজড রাখার ক্ষেত্রে।

আমরা আমাদের দেশে এখনো কথা বলি কে স্বাধীনতার পক্ষে আর কে বিপক্ষে। ওখানে আমরা স্বাধীনতা নিয়ে এখনো রাজনীতি করি। আমাদের দেশে স্বাধীনতার উপড় ভিত্তি করে জনগনকে দুইভাগে ভাগ করা যায়। কিন্তু পৃথিবীর কোন দেশে এমনটা হয়না। সব দেশেই স্বাধীনতা সবার, এটাকে নিয়ে ভাগাভাগি হয়না। এই ভাগাভাগিটা ৭১ এ ই শেষ হয়ে আবার কথা ছিল। যাদের কারনে হয়নি আমার চোখে তারাও বেঈমান, তারা অন্তত আমার মত লোকজনের সাথে বেঈমানি করেছেন যাদের জন্ম ৭১ এর পরে।

আরও একটা ব্যাপার নিয়ে পড়ি মাঝে মাঝে। সেটা হল ধর্ম। ইসলাম ধর্মকে নিয়ে যে কত ধরনের অপব্যাখা আছে তা লিখে শেষ করার মত নয়। যে যেভাবে পারে সেভাবে ব্যখা দিচ্ছে। কেউ কেউ কোরানের দু এক লাইন তুলে দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অথচ ইসলাম বলেছে এইসব অপব্যাখ্যাকারিদের জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত আছে। ইসলাম বলেছে ইসলাম নিয়ে কোন সন্দেহ থাকলে কোরান বা সহি হাদিস দেখো। কিন্তু আমরা তা করিনা। আমরা অন্যের কথার উপড় বেশি নির্ভর করি। তাই অন্যরা আমাদের নিয়ে, আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে খেলছে। অথচ আজকাল নেটে কোরানের বাংলা কপি পাওয়া যায় অহরহ। ধর্ম পালন আর রাজনীতি যে এক জিনিস নয় এটা আমাদের লোকজনকে কেউ বলেনা সঠিকভাবে এবং মানুষগুলোও বুঝতে পারেনা ঠিকমত। 




:: প্লেজারিজম এবং ফিডম ফাইটারস এর এস নিয়ে টানাটানি ::

 মানুষজন প্লেজারিজম নিয়ে কথা বলছে ফেসবুকে। ভালো লাগছে যে এতে যদি কারো কারো সেলফ - এস্টীম জন্মায়। চাকরির শুরুতে সব কাজ করার পরে যখন দেখতাম আর...